বৈঠকের পর বৈঠক, তবু অচলাবস্থা কাটছে না। সাংগ্রাইং উৎসব ঘিরে দুই উদযাপন কমিটির বিরোধ মেটাতে রোববার থেকে একের পর এক আলোচনা হলেও দুই পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। সোমবার সকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিকেলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৃথক বৈঠক হয়েছে — কিন্তু সমঝোতার পথ এখনও অধরা।
বিরোধের শিকড় রাজনীতিতে। বান্দরবান জেলা শহরে প্রতিবছর বৈসাবি উৎসবে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাইং আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি। কিন্তু এবার জেলা বিএনপির দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে তৈরি হয়েছে জটিলতা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছর মাম্যাচিং-জাবেদ পক্ষের নেতাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়। পরে ফেব্রুয়ারিতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাংসদ সাচিংপ্রু জেরীর সমর্থকদের নিয়ে তৈরি হয় আরেকটি কমিটি। এই দুই কমিটির টানাপোড়েনে এক মাস ধরে উত্তেজনা চলছে উৎসবকে ঘিরে।
বিকেলের বৈঠক শেষে উৎসব উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি অং চ মং মারমা জানান, গত বছরের কমিটি সমঝোতায় রাজি হলেও নতুন কমিটির নেতারা রাজি হননি। ফলে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এখন মারমা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তাঁর নেতৃত্বে সব পক্ষকে নিয়ে বসবেন। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে একসঙ্গে অথবা অন্য কোনো উপায়ে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশ সুপার আবদুর রহমান জানান, প্রশাসন কোনো পক্ষের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায় না। তবে দুই পক্ষ সমাধানে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও আগামী ১৩ এপ্রিল জেলা শহরের রাজারমাঠে সাংগ্রাইং উৎসব আয়োজনের কথা রয়েছে। কিন্তু সময় ফুরিয়ে আসছে — আর সমাধান এখনও অনিশ্চিত।


