Home বান্দরবান উৎসবের মৌসুমে তেলের হাহাকার, বান্দরবানে বুকিং কমেছে ৮০ শতাংশ

উৎসবের মৌসুমে তেলের হাহাকার, বান্দরবানে বুকিং কমেছে ৮০ শতাংশ

বিজু, সাংগ্রাইং আর বিষু — পাহাড়ের তিন জাতিগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব। এই সময়টাতেই সারা বছরের সবচেয়ে বেশি পর্যটক ভিড় করেন বান্দরবানে। কিন্তু এবার উৎসবের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার আগেই পাহাড় কন্যার পর্যটনশিল্পে লেগেছে জ্বালানির আগুন।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৩

Share

বিজু, সাংগ্রাইং আর বিষু — পাহাড়ের তিন জাতিগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব। এই সময়টাতেই সারা বছরের সবচেয়ে বেশি পর্যটক ভিড় করেন বান্দরবানে। কিন্তু এবার উৎসবের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার আগেই পাহাড় কন্যার পর্যটনশিল্পে লেগেছে জ্বালানির আগুন।

জেলা সদরে চারটি পেট্রোল পাম্প থাকলেও অধিকাংশ পাম্পেই এখন তেলের দেখা নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে চালকদের। আর এই সংকটের সরাসরি ধাক্কা পড়েছে হোটেল, রিসোর্ট থেকে শুরু করে জিপ-মাইক্রো চালক, বোট চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী — সবার উপর।

হোটেল গার্ডেন সিটির মালিক মো. এমরান জানাচ্ছেন উদ্বেগজনক এক তথ্য। বিজু-সাংগ্রাইং উপলক্ষে এবং আসন্ন সরকারি ছুটিগুলোকে ঘিরে যে আগাম বুকিং আসার কথা ছিল, তার ৮০ শতাংশই এখন নেই। সংকট না কাটলে পর্যটন মৌসুম জুড়েই মন্দা থাকবে বলে আশঙ্কা তাঁর। এতে সরাসরি আর্থিক বিপদে পড়বেন এই খাতের সঙ্গে জড়িত অন্তত ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পরিবহনকর্মী।

পর্যটকবাহী গাড়িচালক আক্তারুজ্জামান বাবু বলছেন, বান্দরবানের পর্যটন সড়ক আর নদীপথ নির্ভর। কিন্তু জ্বালানির অভাবে দূরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়া এখন প্রায় বন্ধ। নীলগিরি, বগালেক, কেওক্রাডংয়ের মতো জনপ্রিয় স্পটগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বান্দরবান জিপ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জহীর উদ্দীন মাসুম জানান, জেলায় তিন হাজারেরও বেশি চালক ও শ্রমিক পর্যটকনির্ভর পরিবহনে জীবিকা নির্বাহ করেন। দূরের পর্যটন কেন্দ্রে যেতে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল লাগলেও কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে মাত্র ১০ লিটার। ফলে দূরের রুটে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, আয়ও কমছে আশঙ্কাজনকভাবে।

প্রশাসনের তরফে বলা হচ্ছে, গত বছরের সমপরিমাণ ডিজেলই সরবরাহ হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু মহল মজুতের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় সংকট তৈরি হয়েছে। শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে নেমেছেন বলে জানানো হয়েছে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এস এম হাসান বলেন, বান্দরবানে অকটেন পেতে কিছুটা সমস্যার অভিযোগ পেলেও ডিজেল পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছরও সমপরিমাণ ডিজেল সরবরাহ হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি মজুতের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা ঘটছে। ফলে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষে ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: