পুরনো বছরকে বিদায়, নতুন বছরকে বরণ — এই মহালগ্নে রাঙামাটির পাহাড়জুড়ে এখন উৎসবের রং। বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, চাংক্রান, চাংলান আর পাতা উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী মেতেছে ঐতিহ্যবাহী জুম্ম খেলাধুলায়। শুক্রবার সকালে রাঙামাটির চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে বসল সেই মিলনমেলা।
শহর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ, বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড়ে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ রূপ নেয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক প্রাণবন্ত মিলনস্থলে। আধুনিক ক্রীড়ার বাইরে ছিল পাহাড়ের একান্ত নিজস্ব খেলাগুলো — বাঁশের তৈরি বিশেষ পাদুকা পরে দ্রুত হাঁটার ‘বাঁশ খরম’, ‘নাদেং’ এবং বনজ বীজ দিয়ে লক্ষ্যভেদের ‘ঘিলা খেলা’।
অংশগ্রহণকারী সীমা চাকমা বলেন, সারা বছর এসব খেলা তেমন একটা খেলা হয় না। বিজু উৎসবে এসে শৈশব আর পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের কথা মনে পড়ে যায়।
আরেক অংশগ্রহণকারী সুজন চাকমার কথায় উঠে এল ভিন্ন এক অনুভূতি। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের বাইরে এসে মাঠে এসব খেলায় অংশ নেওয়া যে আলাদা আনন্দ দেয়, সেটা বলতে গিয়ে তিনি বললেন, এই খেলাগুলো আমাদের জাতিসত্তার পরিচয় বহন করে।
আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার জানান, তরুণ প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখতেই প্রতিবছর এই আয়োজন। পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।


