Home রাঙামাটি পাহাড়ে পানির হাহাকার, দুই-তিন কিলোমিটার হেঁটেও মিলছে না এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানি

পাহাড়ে পানির হাহাকার, দুই-তিন কিলোমিটার হেঁটেও মিলছে না এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানি

দুই থেকে তিন কিলোমিটার হেঁটেও পানি মিলছে না। যে ঝিরি-ঝরনা থেকে যুগের পর যুগ পানি সংগ্রহ করে জীবন চলত, সেগুলো এখন শুকনো। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শতাধিক গ্রামে এখন খাবার পানির তীব্র সংকট।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০০

Share

দুই থেকে তিন কিলোমিটার হেঁটেও পানি মিলছে না। যে ঝিরি-ঝরনা থেকে যুগের পর যুগ পানি সংগ্রহ করে জীবন চলত, সেগুলো এখন শুকনো। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শতাধিক গ্রামে এখন খাবার পানির তীব্র সংকট।  মানুষের সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কাচালং বাজার, মোস্তফা কলোনি, জীবতলী, কচুছড়ি, নোয়া আদাম, সাজেকসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় এই সংকট এখন চরম আকার নিয়েছে। সমতল থেকে এক থেকে দুই হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এসব গ্রামে নলকূপ বা রিংওয়েল বসানোর কোনো সুযোগ নেই। বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা ছিল পাহাড়ি ঝিরি আর ঝরনা — যা এখন প্রায় অস্তিত্বহীন।

কারণ হিসেবে উঠে আসছে একটাই নাম — বন উজাড়। অপরিকল্পিত জুম চাষের কারণে সাজেক ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ পাহাড় এখন প্রায় বৃক্ষশূন্য। ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাছ নেই বললেই চলে। গাছ না থাকায় কমে গেছে বৃষ্টিপাত, নেমে গেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। শুকিয়ে গেছে একের পর এক ছড়া।

সাজেকের শিয়ালদাই গ্রামের কারবারি ভুজন ত্রিপুরা ও লক্ষ্মীবালা চাকমা জানান, আট থেকে দশ বছর আগেও গ্রামের আশপাশের ছড়াগুলোতে সারা বছর পানি পাওয়া যেত। জুম চাষ বাড়তে থাকায় এবং বন উজাড় হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। গত বছর এ সময় পানির কোনো অভাব ছিল না — এ বছর মার্চের শেষ থেকেই সংকট শুরু হয়েছে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাও স্বীকার করেন, আগের মতো পাহাড়ি ঝরনায় আর পানি নেই।

পানির সংকটে অনেক পরিবার এখন গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। কিন্তু সমাধান কোথায়? বাঘাইছড়ি উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী রুশো খীসা মুঠোফোনে জানান, এসব গ্রামে পানি সরবরাহ করতে হলে দাতা সংস্থার সহায়তা প্রয়োজন হবে।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: