ব্যাঙঝিড়ির পানিতে একসময় গোসল করত পাঁচ পাড়ার শিশুরা। সেই ঝিরি এখন শুকনো। পাশের বনে যে হরিণ চরত, সেও নেই। আছে শুধু মাটিতে পড়ে থাকা কাটা গুঁড়ি আর শিকড়ের ক্ষত।
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার মাংগু মৌজায় এটাই এখন বাস্তবতা।
স্থানীয়রা বলছেন, গল্পটা শুরু হয়েছিল দুই বছর আগে। প্রথমে এলো পারমিট। তারপর করাত। তারপর ট্রাক। রাতের অন্ধকারে একের পর এক পড়তে লাগল শতবর্ষী গাছ — গর্জন, চাপালিশ, সেগুন। ভোর হতেই সেই কাঠ উঠে গেল ট্রাকে, গন্তব্য দেশের কোনো শহর। চৈক্ষ্যং ও তৈন রেঞ্জের বিস্তীর্ণ পাড়া বন এভাবেই হারিয়ে গেছে চোখের সামনে।
পানির জন্য হাহাকার
পামিয়া, নামচাক, আদুই, কাকই, তন্তুই — এই পাঁচ পাড়ার হাজারো ম্রো মানুষের বাঁচার ভরসা ছিল ব্যাঙঝিড়ি। পাহাড়ের বন যত কমেছে, ঝিরির পানিও তত কমেছে। এখন সেই ঝিরিতে পা ভেজানোর পানিও নেই।
আদুই পাড়ার কার্বারী কামপ্লাত ম্রো বলছিলেন, ‘২০০ একরের বেশি বন সাফ হয়ে গেছে। ঝিরি শুকিয়ে গেছে। এখন পানির জন্য কোথায় যাব?’
পাশের পাড়ার মেন রাও ম্রো যোগ করলেন, ‘হরিণ ছিল, ভালুক ছিল, বন্য শূকর ছিল। বন গেছে, সব গেছে।’
সবাই জানে, কেউ থামায় না
এই বন উজাড় কোনো লুকোচুরির বিষয় নয়। দিনের আলোয় কাঠ বোঝাই ট্রাক চলে। তবু থামে না কিছু।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের বান্দরবান চ্যাপ্টারের সভাপতি জোয়াম লিয়ান আমলাই সরাসরি প্রশ্ন রাখলেন, ‘বন বিভাগের মদদ না থাকলে দুই বছর ধরে এভাবে বন উজাড় হয় কীভাবে?’
জবাবে তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম বললেন, ওই এলাকায় বন বিভাগের ‘কার্যক্রম নেই’। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলীকদমের ৫ হাজার ৭০০ একর বনভূমির একটা বড় অংশ এরই মধ্যে নিশ্চিহ্ন। থানচি, রুমা, রোয়াংছড়িতেও একই ছবি। পাহাড়ের মানুষ বলছেন, ব্যবস্থা না নিলে একদিন এই পাহাড়েও আর ছায়া মিলবে না।


