কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আবারও রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আরসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে হালিম গ্রুপের প্রধান আবদুল হালিম (৪৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে উখিয়ার কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি ব্লক সংলগ্ন তরজার ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ক্যাম্প সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় বাজার থেকে মোটরসাইকেলে নিজ শেডে ফেরার পথে আবদুল হালিম ও তাঁর সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিত হামলার শিকার হন। ক্যাম্প-৮ ইস্ট ও ক্যাম্প-০৭-এর মধ্যবর্তী তরজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘হালিম ও তাঁর দুই সহযোগী বাজার থেকে বাইকে ফিরছিলেন। ব্রিজের কাছে পৌঁছাতেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা হঠাৎ গুলি শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা পালিয়ে যায়।’
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে এবং পরে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত প্রায় আটটার দিকে আবদুল হালিম মারা যান। আহত মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৫) ও মোহাম্মদ নুরের (৩৪) অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত আবদুল হালিম ক্যাম্প-০৭-এর এফ-৬ ব্লকের বাসিন্দা এবং বাদশা মিয়ার ছেলে। তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘হালিম বাহিনী’ ও ‘এআরও গ্রুপ’-এর প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই এপিবিএন পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং ক্যাম্পজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
তবে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, বিস্তারিত তথ্য এখনো থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর কুতুপালংসহ আশপাশের ক্যাম্পগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল বাড়িয়েছে এবং সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।


