১৮০ দিনের মধ্যে কাপ্তাই হ্রদ খননের ঘোষণা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। দীর্ঘদিন ধরে হ্রদে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় নৌযান চলাচল, মাছ উৎপাদন ও পর্যটন ব্যাহত হচ্ছিল। এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় নৌযান, পর্যটন ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে উৎসাহ ফিরে এসেছে। পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তারা মনে করেন, খনন কার্যক্রম শুরু হলে কাপ্তাই হ্রদে পর্যটন বেড়ে যাবে, হ্রদের আশেপাশের হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং নৌযান সেবা সমৃদ্ধ হবে।
মৎস্যজীবীরা বলছেন, হ্রদে নাব্যতা বৃদ্ধি হলে মাছ উৎপাদনও বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।
কাপ্তাই হ্রদ খননের এই উদ্যোগকে পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটনের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক বাস্তবায়ন হলে এটি এলাকার অর্থনৈতিক গতি, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় জীবনমানের উন্নতিতে বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, “খনন হলে গ্রীষ্মকালে ছয়টি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে, পণ্য পরিবহন দ্রুত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও যাতায়াত সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।”
উল্লেখ্য, রবিবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কাপ্তাই হ্রদ খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে ঘোষণা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
মন্ত্রী বলেন, “কাপ্তাই হ্রদ পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতি, যোগাযোগ, মৎস্য ও পর্যটনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। খননের মাধ্যমে হ্রদের নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য, মাছ উৎপাদন ও পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে। আমরা চাই, হ্রদকে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির কেন্দ্রে পরিণত করতে।”


