পাহাড়ি ঝর্ণা-ছড়া শুষ্ক, প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাত নেই—এবার খাগড়াছড়ির আমবাগানগুলোতে শঙ্কার ছায়া। জমি ও বাগান বাড়লেও ফলন এখনও নিশ্চিত নয়।
২০০৮-০৯ সালে খাগড়াছড়ি জেলার ১৩৫০ হেক্টর জমিতে ২৭,৬৭৫ টন আম উৎপাদিত হলেও গত বছর ৪৫৯০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৬২,১৭৯ টন। তবু কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ, “মুকুল আছে, কিন্তু গুটি হচ্ছে না; গুটি হলেও প্রাকৃতিক বৈরিতায় টেকছে না,” জানালেন দীঘিনালা এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা দীপোজ্জ্বল চাকমা।
পাহাড়ি ছড়া শুকিয়ে যাওয়ায় বাগানগুলোতে প্রাকৃতিক পানি নেই। খাল-নদী থেকে সেচের ব্যবস্থা ব্যয়বহুল। অনিমেষ চাকমা রিংকু, খাগড়াছড়ি ফলদ বাগান মালিক সমিতির উপদেষ্টা, বলেন, “সরকারি সহায়তা ও প্রযুক্তি সেবা না মেলায় তরুণরা হাড়ভাঙা খাটুনিতে আমের বাগান চাষ করছেন। তবে বৃষ্টিপাত না হলে ধস নামবে।”
সিনিয়র আইনজীবী ও কৃষি উদ্যোক্তা জ্ঞানজ্যোতি চাকমা আরও জানালেন, দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। সোলার পাম্প ব্যবহারও সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই কৃত্রিমভাবে পানি ছিটানো ছাড়া ফলন ধরে রাখা কঠিন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “পাহাড়ের উঁচু ভূমিতে ফলের আবাদ দিন দিন চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ধরে রাখার বিকল্প নেই। তবে কৃত্রিম সেচের ব্যবস্থা করলে ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব।”
ফলে, শুধু আম নয়—খাগড়াছড়ির সব ধরনের ফলের বাগানই ঝুঁকির মুখে। কৃষকরা চাইছেন জলবায়ু ও সরকারি সহায়তার সমন্বিত পদক্ষেপ, না হলে পাহাড়ের ফলের স্বপ্ন হারাতে পারে।


