Home বিশেষ প্রতিবেদন চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলো!

চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলো!

চট্টগ্রাম শহরের স্মাট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের বাসায় গুলি ছুঁড়তে সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করার ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে ইউপিডিএফ, জেএসএস এবং কেএনএফসহ পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নাম।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২৮

Share

চট্টগ্রাম শহরের স্মাট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের বাসায় গুলি ছুঁড়তে সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করার ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে ইউপিডিএফ, জেএসএস এবং কেএনএফসহ পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি ছোড়ার ঘটনার পর গত ১০ মার্চ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সাবমেশিনগানসহ তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রিভলবার ও পিস্তল চট্টগ্রাম শহরের দুটি থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। আর সাবমেশিনগানটি ‘পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের’ কাছ থেকে মোটা দামে কেনা হয়েছে।

এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম পুলিশ অস্ত্র বিক্রি চক্রের সদস্যদের ধরতে বর্তমানে মাঠে নেমেছেন। রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়িতে তাদের অবস্থান ট্র্যাক করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের কর্মকর্তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ, জেএসএস এবং কেএনএফের বাৎসরিক আয়ের অন্যতম উৎস হলো চাঁদাবাজি ও অস্ত্র ব্যবসা। পাশ্ববর্তী দুটি দেশ থেকে অবৈধপথে অস্ত্র এনে এখানকার সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রি করছে এসব সংগঠনের নেতারা।

চাহিদায় থাকা অস্ত্রগুলোর ভেতর একনলা বন্দুক, দোনলা বন্দুক, কাটা বন্দুক, শটগান, পাইপগান, সাবমেশিনগান, একে-৪৭, এলএমজি ও এসএমজির চাহিদা বেশি। এ ছাড়া হ্যান্ড গ্রেনেড ও রকেট লাঞ্চারসহ কিছু আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করে চট্টগ্রামের বড় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অন্তত চারটি রুট হয়ে অস্ত্র ঢুকছে রাঙ্গামাটিতে। মিয়ানমার থেকে মিজোরাম দিয়ে এসব অস্ত্র আসার পর তা হাত বদল হয়ে চলে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে। সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকার অস্ত্রও রয়েছে পাহাড়ি গোষ্ঠীগুলোর কাছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাতেও আঞ্চলিক দলগুলোর সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ উঠে এসেছে। কেউ অস্ত্র মজুত রাখার অপরাধে, আবার কেউবা বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন আইনশৃ্খলাবাহিনীর হাতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান এবং দুর্গম পাহাড়ি পথকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ অস্ত্র পাচারের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যতই জোরদার হোক, অস্ত্রের উৎস বন্ধ না হলে পাহাড়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়বে বলে পার্বত্য বিষয়ক নতুন মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর কাছে অভিমত তুলে ধরেন।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: