রাঙামাটির পাহাড় আর কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী গ্রামে এখন লাল-সবুজ রঙে ভরে গেছে বাজার। মাইনীমুখ থেকে শুরু করে বনরুপা, কলেজগেট, রিজার্ভ বাজার—সবখানেই চোখে পড়ে ‘মাইনীর তরমুজ’-এর সারি। এই তরমুজ শুধু স্থানীয়দের চাহিদা মেটাচ্ছে না, ঢাকার আড়তেও পৌঁছে যাচ্ছে। কম খরচে ভালো ফলন, বেশি দাম, আর মিষ্টি স্বাদ—মাইনীর তরমুজ এখন পাহাড়-সমতল সবখানে জনপ্রিয়।
মাইনীমুখ বাজার ছাড়াও কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমিতে চাষ করা সব তরমুজ এখন ‘মাইনীর তরমুজ’ নামে জনপ্রিয়। রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায়, বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী ও চেঙ্গী নদীর অববাহিকায় এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই রসালো ও সুমিষ্ট তরমুজ ঢাকার আড়ত থেকে চট্টগ্রামের বাজার পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। কম খরচে বেশি ফলন এবং অনুকূল আবহাওয়ার ফলে চাষিরা এবার ভালো মুনাফা পাচ্ছেন, আর মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও খুশি—মাইনীর তরমুজ যেন হয়ে উঠেছে পাহাড়ি শ্রমের মিষ্টি প্রতিফলন।প্রিয়।
ব্যবসায়ী সোহেল চাকমা বলেন, “আমি বিশ বছর ধরে কাঁচামাল, তরমুজ ও আনারস বিক্রি করি। মৌসুমের শুরুর দিকে মাইনীর তরমুজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পাইকারি কিনতে হয়েছে ১৮০ টাকা, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ যোগ করে অ্যাভারেজে ২০০ টাকা পিস। ছোট তরমুজ বিক্রি হয় ১০০ টাকার মধ্যে, বড় তরমুজ সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায়।”
মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. জাফর ও বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, “একশো তরমুজ কিনতে খরচ পড়েছে প্রায় বিশ হাজার টাকা। প্রতিদিন ৫–৬টা নষ্ট হয়। বড় তরমুজ থাকলে দাম ভালো, কিন্তু ছোট-মাঝারি তরমুজও বিক্রি করতে হয়।”
তাহমিদ ও সাকিব—দুজন তরুণ—এই মৌসুমি ব্যবসায় ঢুকেছেন সম্প্রতি। ঢাকা থেকে রাঙামাটিতে বেড়াতে এসে তারা খেয়াল করেছেন, চাষি-ব্যবসায়ীরা কেমিকেলমুক্ত তরমুজ চাষ করে থাকেন। বর্তমানে তারা রাঙামাটির খুচরা বাজার ও ঢাকার আড়তে তরমুজ পাঠাচ্ছেন। তাহমিদ বলেন, “প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে লাভ-লোকসান। বৃষ্টি হলে চাহিদা কমে যায়। আমরা চাই, ঢাকার মানুষ নিরাপদ ও রসালো তরমুজ খেতে পারুক।”
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রায় ৭,২০০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “আবহাওয়া ভালো হওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে। আগাম জাতের কিছু তরমুজ চাষ করার ফলে দামও ভালো পেয়েছেন চাষিরা।”


