Home বান্দরবান চোখ বাঁধা, সারারাত মারধর — ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন বান্দরবানের মোর্শেদ

চোখ বাঁধা, সারারাত মারধর — ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন বান্দরবানের মোর্শেদ

বাবা বিদেশে গিয়ে মারা গেছেন, মরদেহ আনার সামর্থ্য নেই পরিবারের। সেই শোকের সংসারে একমাত্র রোজগেরে ছেলে মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার টানছিলেন। সেই ছেলেকেই তুলে নিয়ে গেল সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। অবশেষে ধারদেনা করে ৩০ হাজার টাকা জোগাড় করে ছেলেকে ফিরিয়ে আনল পরিবার।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৩

Share

বাবা বিদেশে গিয়ে মারা গেছেন, মরদেহ আনার সামর্থ্য নেই পরিবারের। সেই শোকের সংসারে একমাত্র রোজগেরে ছেলে মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার টানছিলেন। সেই ছেলেকেই তুলে নিয়ে গেল সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। অবশেষে ধারদেনা করে ৩০ হাজার টাকা জোগাড় করে ছেলেকে ফিরিয়ে আনল পরিবার।

সোমবার ভোররাত চারটার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাটের গহিন পাহাড় থেকে মুক্তি পান বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের তরুণ মোটরসাইকেল চালক মোর্শেদ আলম (২০)। গত রোববার ক্যংঙ্গারবিল এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল।

মুক্তি পেয়ে মোর্শেদ জানান, অপহরণের পর চোখ বেঁধে পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সারারাত বেঁধে রেখে চলে মারধর। পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের পর ভোরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্বজনরা জানান, অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করলে দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবার। মানুষের কাছে হাত পেতে কোনোমতে ৩০ হাজার টাকা জোগাড় করে দুর্বৃত্তদের দেওয়ার পরই ছাড়া পান মোর্শেদ। উল্লেখ্য, জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব যাওয়া তার বাবা নুরুল হাকিম সেখানেই মারা যান। অর্থাভাবে মরদেহটুকুও দেশে আনা সম্ভব হয়নি। সেই দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিলেন মোর্শেদ।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি আবদুল বাতেন মৃধা দাবি করেন, অপহরণের খবর পাওয়ামাত্র সম্ভাব্য সব স্থানে পুলিশ দল পাঠানো হয়। পুলিশি তৎপরতার কারণেই অপহরণকারীরা দ্রুত মোর্শেদকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: