Home কক্সবাজার আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে বহুস্তরের পাচার চক্র

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে বহুস্তরের পাচার চক্র

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা নয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বহুস্তর বিশিষ্ট মানবপাচার চক্রের হদিস পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে শুরু করে উপকূল পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা এই চক্রের ছয় সদস্যকে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৫

Share

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা নয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বহুস্তর বিশিষ্ট মানবপাচার চক্রের হদিস পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে শুরু করে উপকূল পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা এই চক্রের ছয় সদস্যকে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া দুই রোহিঙ্গার বয়ানে উঠে এসেছে চক্রের ভেতরের স্তরভেদ। বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গা রফিকুল ইসলাম জানান, কুতুপালং ৬ নম্বর ক্যাম্পের ‘মাহ নূর’ নামের এক দালাল তাকে কাজের প্রলোভন দিয়ে ট্রলারে তোলেন। পরে পরিবারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করা হয়। ট্রলারডুবির পর ওই দালাল গা-ঢাকা দেন। রফিকুলের অভিযোগ, ট্রলারে দালালদের পক্ষে ‘আকবর’ নামে একজন যাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালাত — পানি চাইলে লাথি মেরে ফেলে দিত।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরেক ভুক্তভোগী এনাম উল্লাহ ইমরান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ছয়জনের অন্তত চারজন সরাসরি ট্রলার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে যুক্ত ছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টেকনাফ থানার এসআই সনজীব কান্তি নাথ জানান, কোস্ট গার্ডের তদন্তে ছয়জনেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং রিমান্ড চাওয়া হবে।

মামলার এক নম্বর আসামি কক্সবাজারের মো. হামিদের পরিবার দাবি করছে, তিনি নিজেও মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন এবং তাঁর আরেক ভাই ইব্রাহিম এখনো নিখোঁজ। তবে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলছেন ভিন্ন কথা — এটি ছিল হামিদের ষষ্ঠ যাত্রা এবং তিনি আগেও অন্যদের সঙ্গে নিয়েছিলেন।

রামুর কচ্ছপিয়া থেকে নিখোঁজ মিজবাউল হকের বাবা মোজাম্মেল হক জানান, স্থানীয় দালাল আবদুল হামিদ তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। ছেলে ফিরিয়ে আনতে ৭০ হাজার এবং মালয়েশিয়া পৌঁছালে আরও তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ট্রলারডুবির পর আবদুল হামিদ দুবাই পালিয়ে গেছেন বলে দাবি তাঁর।

ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১৫ নম্বর ক্যাম্পের রাহেলা বেগম সম্পর্কে তাঁর বোন সেনোয়ারা বেগম জানান, পারিবারিক নির্যাতন ও সামাজিক চাপেই রাহেলা এই বিপজ্জনক যাত্রায় বের হয়েছিলেন।

এখনো প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ, অথচ প্রশাসনের কাছে কোনো তালিকা নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ মামলাও করেননি। জেলা প্রশাসক আ. মান্নান জানান, যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করেন, ২৫০ জন নিখোঁজের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান এই প্রবণতাকে ‘স্বেচ্ছা পাচার’ বলে অভিহিত করে বলেন, রাষ্ট্রহীনতা ও ক্যাম্প জীবনের সীমাবদ্ধতাই রোহিঙ্গাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: