তিনটি এলইডি বাল্ব, দুটি ফ্যান আর একটি মোটর— এটুকুই সম্বল খাগড়াছড়ির রামগড়ের কৃষক হারুনুর রশীদের তিন কামরার টিনশেড বাড়িতে। জানুয়ারিতে বিল এসেছিল ৮৮ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৯২ টাকা। মার্চে বিল দিতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ— এক লাখ চার হাজার একশো এগারো টাকা।
গত শনিবার জালিয়াপাড়া বাজারে মোবাইল ফাইন্যান্স সার্ভিসের দোকানে বিল দিতে গিয়ে কাগজটা দেখে থ হয়ে যান হারুনুর রশীদ। দোকানদার বিষয়টির ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতেই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সারা এলাকায়।
হারুনুর রশীদ বলেন, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ৮৮ আর ৯২ টাকা বিল এসেছিল। মার্চে হঠাৎ লাখ টাকার বেশি বিল দেখে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। একজন কৃষক মানুষ, এত টাকা কোথা থেকে দেবেন?
রামগড় বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী কাওসার আহমেদ প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্বীকার করেন, মিটার রিডিং নোটে ৭০ ইউনিটের জায়গায় ভুলবশত ৭ হাজার ইউনিট লেখা হয়েছে। সেই ভুলের ভিত্তিতেই বিল প্রিন্ট হয়েছে। বিল সংশোধন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তবে এই ‘ভুল’ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। মিটার না দেখে রিডিং নেওয়া এবং অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে বিল করার অভিযোগ এলাকায় দীর্ঘদিনের।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন জেলা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, সিস্টেম লস সমন্বয় ও বিল আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ‘অফিসিয়াল মৌখিক নির্দেশে’ এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
ভাইরাল হওয়ার পর রোববার সকালে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন হারুনুরের বাড়িতে গিয়ে বিলের কাগজ নিয়ে আসেন।


