Home কক্সবাজার কক্সবাজারে কচ্ছপের মৃত্যুর হার বেড়েছে তিনগুণ, ট্রলার-জালই প্রধান কারণ

কক্সবাজারে কচ্ছপের মৃত্যুর হার বেড়েছে তিনগুণ, ট্রলার-জালই প্রধান কারণ

কক্সবাজারের বালিয়াড়ি। ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আসছে মৃত কচ্ছপ। পেটের মধ্যে ডিম রেখে মা কচ্ছপগুলো একে একে মারা যাচ্ছে। দুই মাসে অন্তত ৭০টি মৃত কচ্ছপ পাওয়া গেছে। বেশিরভাগের শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৮

Share

কক্সবাজারের বালিয়াড়ি। ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আসছে মৃত কচ্ছপ। পেটের মধ্যে ডিম রেখে মা কচ্ছপগুলো একে একে মারা যাচ্ছে। দুই মাসে অন্তত ৭০টি মৃত কচ্ছপ পাওয়া গেছে। বেশিরভাগের শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট।

জেলেরা বলছেন, বড় ট্রলার ও ট্রলিং জাহাজের আঘাত এবং মাছ ধরার জালে আটকা পড়াই প্রধান মৃত্যুর কারণ।

জেলে আহমেদ কবির বলেন, “জালে আটকা পড়লে অনেক সময় পাখা কেটে ফেলা হয়। দুর্বল হয়ে তারা কূলে এসে মারা যায়।” মনির আহমেদ যোগ করেন, “গত এক সপ্তাহে শতাধিক মৃত কচ্ছপ ভেসে এসেছে। ট্রলারের জালে শ্বাসরোধই বেশি মৃত্যুর কারণ।”

সোনারপাড়ায় কচ্ছপের ডিম সংরক্ষণে কাজ করছেন নবী হোসেন । তিনি বলেন, “এক সপ্তাহে প্রায় ২০টি মৃত কচ্ছপ কবর দিতে হয়েছে। খোলা অবস্থায় রাখলে দুর্গন্ধ ছড়ায় ও শিশুদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়। ডিম পাড়তে এসে মা কচ্ছপ একের পর এক মারা যাচ্ছে।”

রেডিয়েন্ট রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টারের গবেষক মো. আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, সোনাদিয়া দ্বীপ, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে মৃত কচ্ছপের ঘটনা বেশি। গত বছর মৃত কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছিল ২০০টির বেশি।

পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, “সামুদ্রিক কচ্ছপ সমুদ্রের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে মৃত্যুর সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে—যা গভীর উদ্বেগের।”

সোনাদিয়া দ্বীপে চলমান সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নতুন হ্যাচারি স্থাপন এবং দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও পূর্বপাড়ায় ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একজন গার্ড নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।

গবেষকরা বলছেন, কচ্ছপ টিকে থাকলে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় থাকে। জেলিফিশের আধিক্য কমে, মাছের উৎপাদন বাড়ে। সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা—এই তিন পদক্ষেপই কচ্ছপ বাঁচাতে পারে।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: