বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক কাঠুরিয়ার পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সীমান্তে বাঁশ কাটতে গিয়ে এ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সীমান্ত পিলার ৫১/৭ এস-এর দক্ষিণে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আব্দুল জব্বার (৪০) নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আলী আহমদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে আব্দুল জব্বারসহ কয়েকজন সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে বাঁশ কাটতে যান। এ সময় সেখানে পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে আব্দুল জব্বারের এক পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সহযোগীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, ঘটনাটি সীমান্ত পিলার ৫১/৭ এস-এর দক্ষিণে মিয়ানমারের ভেতরে ঘটেছে। সেখানে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণেই তিনি আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী অনেকেই জীবিকার তাগিদে মাঝে মাঝে মিয়ানমারের ভেতরে গিয়ে বাঁশ বা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাতের কারণে বিভিন্ন স্থানে স্থলমাইন পুঁতে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় চলাচল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এর আগেও টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় মাইন বিস্ফোরণ ও মাইনের অংশ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সীমান্তের কাছাকাছি এলাকাগুলো কি আবারও মাইনঝুঁকির মধ্যে পড়ছে?


