প্রতিদিন হাজারো মানুষ, যানবাহন আর ছোট ছোট ব্যবসায়ী, রাঙামাটি-বান্দরবান-খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রামের যাতায়াতে নাভিশ্বাসে ভোগেন। কারণ? কর্ণফুলী নদীর ওপর লিচুবাগান ফেরিঘাটে সেতু নেই, আর ফেরি চলাচল কখনোও ঠিক মতো নয়। কখনও জোয়ারের পানি বেড়ে যায়, কখনও ফেরি নষ্ট হয়ে যায়—ফলে মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে এই ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
১৯৮৬ সালে লিচুবাগান এলাকায় ফেরি চলাচল শুরু হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ ফেরি চালু করলেও, ফেরিঘাটের দেখভাল ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগ। প্রায় ৩৯ বছর ধরে এই ফেরির ওপর নির্ভর করে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
দীর্ঘ বছর ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রী ও যানবাহন চালকদের। কখনও নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে গেলে বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে।
ফেরিঘাট পার হতে আসা যাত্রীরা অভিযোগ করেন, “একটি সেতু থাকলে আমাদের সময়ও বাঁচবে, পরিবহন খরচও কমবে। এখন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।”
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মেহের আলী ও শরীফ বলেন, “লিচুবাগান ফেরিঘাট পার হয়ে বান্দরবান থেকে কক্সবাজার যাওয়া সহজ, কিন্তু এখানে সেতু না থাকায় অনেক সময় নষ্ট হয়। সেতু হলে পর্যটন শিল্পও উন্নত হবে।”
মাইক্রোবাস চালক সেলিম উদ্দিন বলেন, “দুই-তিন ঘণ্টা ধরে বসে থাকি ফেরি পার হতে পারছি না। কখনও জোয়ারের পানি বেড়ে যায়, আবার কখনও ফেরি নষ্ট হয়ে যায়। প্রচণ্ড ভোগান্তি হয়।”
বাসচালক বিষু ও শিশির জানান, রাঙামাটি ও বান্দরবান থেকে যাত্রী নিয়ে আসা হলেও প্রায়ই দীর্ঘ সময় ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। তাদের দাবি, দ্রুত সেতু নির্মাণ করলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, লিচুবাগান ফেরিঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী ৯ মার্চ মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আরও অগ্রগতি জানা যাবে।


