কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্ধেক চতুর্থ শ্রেণির পদই ফাঁকা। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ডবয় ও অফিস সহায়ক পদে জনবল কম থাকায় হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবা এখন ব্যাহত। অল্প সংখ্যক কর্মচারী দিয়ে পুরো হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাজ চালানো কঠিন। রোগীরা এই সংকটের শিকার হচ্ছেন প্রতিদিন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ৫টির মধ্যে একজনই রয়েছেন। আয়ার দুটি পদের কেউ নেই। ওয়ার্ডবয়ের ৩টির মধ্যে একজন কাজ করছেন, শূন্য রয়েছে ২টি। অফিস সহায়ক ৫টির মধ্যে একজন কর্মরত, ৪টি পদ ফাঁকা। নিরাপত্তা প্রহরীর ২ পদের মধ্যে একজন কাজ করছেন।
এ ছাড়া হাসপাতালের অবকাঠামোও সমস্যার মধ্যে। সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে সোলার ব্যবস্থা নেই। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে থাকে এবং সেবা ব্যাহত হয়। রোগীদের জন্য শয্যাও অপর্যাপ্ত; আরও অন্তত ১০টি শয্যার প্রয়োজন।
ডিপ টিউবওয়েল না থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট আছে। হাসপাতাল এলাকায় সোলার স্ট্রিট লাইট না থাকায় রাতের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে।
কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডা. রুইহলা অং মারামা বলেন, “চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ হলে রোগীদের সেবা স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, “কাপ্তাই একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। অল্প কর্মী থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সেবা ব্যাহত হয়। শূন্য পদ দ্রুত পূরণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সমাধান জরুরি।”
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগসহ অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান এখন সময়ের দাবি।


