পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বাঙালি প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ইতিহাস বলে, মন্ত্রণালয়ে আগে একাধিক বাঙালি মন্ত্রী ও উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের সিদ্ধান্তে যে কাউকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
স্থানীয়রা বলছেন, পার্বত্য এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য এই বিতর্ক মঙ্গলজনক নয়। তারা আশা করছেন, নতুন প্রতিমন্ত্রী সকল জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে কাজ করবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে এসব নিয়োগ নিয়ে তেমন প্রশ্ন তোলা হতো না। কিন্তু বর্তমানে নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছে।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তি চুক্তির আলোকে ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন জেলা নিয়ে গঠিত মন্ত্রণালয় পার্বত্য এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে।
অতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত সরাসরি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া মুহাম্মদ ইউনূস, লে. জে. (অব.) হাসান মশহুদ চৌধুরী, লে. জে. (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী এবং ফখরুদ্দীন আহমদও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সংবিধানই সর্বোচ্চ আইন। রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের সিদ্ধান্তে যে কাউকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
বিভিন্ন ভাবে একটি বিষয় নিয়ে মিথ্যাচার করে ধূম্রজাল সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনার বোর্ডেও দায়িত্ব পালনকারীদের নাম উল্লেখ রয়েছে।
নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আমি পার্বত্য এলাকার সব জনগোষ্ঠীর অধিকার, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।”
এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন নামে একটি সংগঠন সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীকে অ-পাহাড়ি উল্লেখ করে তার প্রত্যাহার দাবি করেছিল। এই দাবির পর পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিপ্রিয় পাহাড়ি ও বাঙালি বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে এই কর্মসূচিকে “শান্ত পাহাড় অশান্ত করার চেষ্টা” হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ব্যারিস্টার মীর হেলাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


