চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়া এক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক—‘সাজ্জাদ বাহিনী’। নতুন সদস্য নিতে তাদের ছিল এক অদ্ভুত নিয়ম: কুরআন হাতে শপথ। সেই শপথের ভিডিও পাঠানো হতো হাজার মাইল দূরে, দুবাইয়ে বসে থাকা গডফাদার সাজ্জাদের কাছে। অনুমোদন এলেই মিলত দলে প্রবেশের ছাড়পত্র।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে সাজ্জাদ বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথাও জানায় পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে থানা লুটের অস্ত্র।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন, মনির এবং সায়েম। এদের মধ্যে রিমন ২০০০ সালের বহুল আলোচিত ‘এইট মার্ডার’ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।
পুলিশ জানিয়েছে, রিমনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন সদস্যরা কুরআন হাতে সাজ্জাদ বাহিনীর প্রতি আনুগত্যের শপথ নিচ্ছেন। ভিডিওতে এক যুবককে বলতে শোনা যায়—জীবন-মরণ যাই হোক, সাজ্জাদ ভাইয়ের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির মুখ ঝাপসা করা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে চট্টগ্রামের চন্দনপুরা এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য সিআইপি মুজিবুর রহমানের বাসায় গুলি চালায় মুখোশধারী চারজন।
অভিযোগ, দুবাইয়ে বসে সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে মুজিবুর রহমানের কাছে প্রথমে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। টাকা না পেয়ে জানুয়ারিতেও ওই বাসায় গুলি চালানো হয়। প্রায় ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ লিখে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীদের হাতে ছিল পিস্তল, এসএমজি, চায়নিজ রাইফেল এবং শটগান।
অভিযানে পুলিশের হাতে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। রিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানা থেকে লুট হওয়া একটি বিদেশি রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মনিরের দেখানো মতে ডবলমুরিং থানায় লুট হওয়া একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস ৯ মিলিমিটার পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সায়েমের তথ্য অনুযায়ী খুলশী এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, চন্দনপুরায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় এসব অস্ত্রই ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ব্যালিস্টিক পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বড় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ রয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেও হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা আছে। পলাতক সদস্যদের ধরতে এবং বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’


