Home বিশেষ প্রতিবেদন রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি সংকট: ঈদ মৌসুমে পর্যটন খাতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি সংকট: ঈদ মৌসুমে পর্যটন খাতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

ঈদের ছুটি মানেই রাঙ্গামাটির পাহাড়, নীল জল আর নৌভ্রমণের টান। কিন্তু সেই আনন্দে ভাটা পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেলের সংকটে।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৪০

Share

ঈদের ছুটি মানেই রাঙ্গামাটির পাহাড়, নীল জল আর নৌভ্রমণের টান। কিন্তু সেই আনন্দে ভাটা পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেলের সংকটে। পেট্রোলপাম্পগুলোতে তেল না থাকায় পর্যটক পরিবহনে গাড়ি সংকট, বাড়তি ভাড়া আদায় এবং কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদসহ ছুটির মৌসুমে বিপুলসংখ্যক পর্যটক রাঙ্গামাটিতে ভ্রমণে আসেন। এসব পর্যটকের বড় অংশই পাহাড়ি সড়কপথে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে যান। বিশেষ করে সাজেক ভ্যালি, পাহাড়ি ঝরনা ও জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যেতে পর্যটকদের গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়।

কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে গাড়ির সংখ্যা কমে গেলে পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। এতে সুযোগ নিয়ে কিছু পরিবহনচালক পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, রাঙ্গামাটিতে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের বড় আকর্ষণের একটি হলো বিশাল জলরাশি ঘেরা কাপ্তাই হ্রদে নৌযানে ঘুরে বেড়ানো। পর্যটকেরা সাধারণত স্পিডবোট বা নৌকায় করে হ্রদের বিভিন্ন দ্বীপ, পাহাড়ি দৃশ্য এবং আশপাশের পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখেন। কিন্তু জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে নৌযান চলাচলও সীমিত হয়ে যেতে পারে, যা পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে রাঙ্গামাটি শহরের পেট্রোলপাম্পগুলোতে তেলের সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সোমবার শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, একটি ছাড়া প্রায় সব পাম্পেই জ্বালানি তেল নেই। পাম্পগুলোর সামনে ‘তেল নাই’ লেখা সাঁটিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। কোথাও সামান্য তেল এলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা খুচরা জ্বালানি বিক্রেতাদের দোকানেও।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, চট্টগ্রাম থেকে সরবরাহ না আসায় রবিবার থেকেই তাদের দোকানে তেল নেই। ফলে অনেক চালক তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

রাঙ্গামাটির ছয়টি উপজেলায় নৌপথই প্রধান যোগাযোগমাধ্যম হওয়ায় জ্বালানি সংকটের প্রভাব আরও বেশি পড়ছে। নৌযানচালকেরাও চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নৌপথে যাত্রী পরিবহনকারী স্পিডবোটের লাইনম্যান মহিউদ্দিন বলেন, চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে নৌপথে যাত্রী পরিবহনও ব্যাহত হতে পারে।

পাম্পসংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কোনো পাম্পে অকটেন, আবার কোনো পাম্পে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে যে পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে সেখানে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে এবং অল্প সময়েই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে খুচরা দোকানগুলোতে তেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না, বড় পাম্পগুলোতে রেশনিং করে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে কেউ যাতে তেল মজুদ করতে না পারে সে বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: