মাঠে কাজ করছিলেন সাজাইউ মারমা। হঠাৎ খবর এল — খামারে আগুন। ছুটে এসে যা দেখলেন, তাতে বুকটা ভেঙে গেল তাঁর। লেলিহান আগুনের শিখায় মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দুই হাজার মুরগির বাচ্চা। সাজানো স্বপ্নের খামার তখন ধ্বংসস্তূপ।
শনিবার রাতে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মতিপাড়ায় এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে যাওয়া পোল্ট্রি ফার্মের মালিক সাজাইউ মারমার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চার লক্ষ টাকা।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় পাশে মাত্র তিনটি বাড়ি। আশপাশের মানুষও তখন মাঠে। ফলে আগুন লাগার পরপরই তা নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো সুযোগই ছিল না। আগুনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি খামারি নিজেও।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি সাজাইউ মারমা বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে ছুটে আসি। কিন্তু আসতে আসতেই সব শেষ হয়ে গেছে। আমি নিজে তখন ক্ষেতে কাজ করছিলাম, আশপাশের লোকজনও মাঠে। কেউ দেখতেই পায়নি কখন আগুন লাগল। এলাকাটা দুর্গম, কাছে মাত্র তিনটা বাড়ি — আগুন নেভানোর মতো কেউ ছিল না। মুহূর্তের মধ্যে দুই হাজার বাচ্চা সব পুড়ে ছাই। আগুন কীভাবে লাগল সেটাও বুঝতে পারলাম না।
রাইখালী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পাইসুই খই মারমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই অগ্নিকাণ্ডে খামারি সাজাইউ মারমা চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। ফার্মের একটি বাচ্চাও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
কাপ্তাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা অমল কান্তি বড়ুয়া জানান, সাজাইউ এলাকায় একজন সফল খামারি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় সব হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা না মিললে ভাঙা খামার নতুন করে গড়ে তোলা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


