বাংলা বছরের শেষ দিনটি এবার পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আলোয় উজ্জ্বল। আগামী ১৩ এপ্রিল চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তিন পার্বত্য জেলার বাইরে দেশের অন্যত্র বসবাসকারী সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য এই ছুটি ঐচ্ছিক হিসেবে প্রযোজ্য হবে।
পাহাড়জুড়ে বর্ষবিদায়ের উৎসব
চৈত্রসংক্রান্তি কেবল বাঙালির উৎসব নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী এই দিনটিকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ও আনুষ্ঠানিকতায় উদযাপন করে। চাকমারা পালন করে বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, ম্রোরা চাংক্রান।এই বহুরঙা উৎসবের দিনে এবার সরকারি ছুটি পেয়ে পাহাড়ের মানুষের আনন্দ যেন দ্বিগুণ।
চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের প্রধান উৎসব বিজু পালিত হয় চৈত্রসংক্রান্তির দিনে। এই দিনে ঘরে ঘরে বিভিন্ন সবজির সংমিশ্রণে তৈরি হয় সুস্বাদু পাজন। বাড়ি বাড়ি আত্মীয়স্বজনেরা বেড়াতে আসেন। মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবে থাকে ফুল তোলার আনুষ্ঠানিকতা — সংক্রান্তির আগের দিন পাহাড় থেকে ফুল ছিঁড়ে বাড়িগুলো সাজানো হয়।
দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ
দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এই উৎসবের দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছিল। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এই ছুটির ঘোষণা, যা পার্বত্য জনগোষ্ঠীর কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগ সরকারি, আধা সরকারি, সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জন্য সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় চৈত্রসংক্রান্তির ছুটির এই বিজ্ঞপ্তি।


