Home রাঙামাটি তেল নেই, চলছে না পাম্প — রাঙামাটিতে মাঠে শুকিয়ে মরছে ধানের চারা

তেল নেই, চলছে না পাম্প — রাঙামাটিতে মাঠে শুকিয়ে মরছে ধানের চারা

জ্বালানি সংকটের আঁচ এবার পড়েছে রাঙামাটির কৃষিজমিতে। কার্ড থাকলেও তেল মিলছে না — আর তেল না পেয়ে সেচ দিতে না পারায় মাঠের পর মাঠে মরে যাচ্ছে ধানের চারা। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে শহরে এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে কৃষকদের।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৪

Share

জ্বালানি সংকটের আঁচ এবার পড়েছে রাঙামাটির কৃষিজমিতে। কার্ড থাকলেও তেল মিলছে না — আর তেল না পেয়ে সেচ দিতে না পারায় মাঠের পর মাঠে মরে যাচ্ছে ধানের চারা। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে শহরে এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে কৃষকদের।

রোববার সকালে রাঙামাটি শহরের চারটি ফিলিং স্টেশনের তিনটিতে রুটিন অনুযায়ী ডিজেল দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তেল পাননি বহু কৃষক।

সময়ের ফাঁদে আটকা কৃষক
স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে তিন দিন ডিজেল, তিন দিন অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে। শৃঙ্খলা ফেরাতে নেওয়া এই উদ্যোগই এখন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, পাম্পে তেল মজুদ থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার অজুহাতে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচরের মতো দুর্গম এলাকা থেকে আসা কৃষকরা জানিয়েছেন, পাহাড়ি পথ পেরিয়ে শহরে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই পার হয়ে যাচ্ছে নির্ধারিত সময়। তাঁদের দাবি, সঠিক চাষি যাচাই-বাছাই করে তেল দেওয়া হোক এবং সরবরাহের সময়সীমা অন্তত দুপুর ১২টা বা ১টা পর্যন্ত বাড়ানো হোক।

মাঠেই মরছে স্বপ্ন
এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে প্রতিদিন জমিতে পানি দিতাম। এখন তেলের অভাবে এক-দুই দিন পরপর দিতে হচ্ছে। পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে যাচ্ছে, ধানের গাছগুলো মরে যাচ্ছে।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিয়মিত সেচ দিতে না পারায় অনেক জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

অকটেন ফিরলেও অসন্তোষ কাটেনি
দীর্ঘ পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর অকটেন সরবরাহ শুরু হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদে যাত্রীবাহী স্পিডবোট সার্ভিস আবার চালু হয়েছে। তবে সাধারণ যানবাহনের চালকদের মধ্যে অসন্তোষ কাটেনি। লাইনে দাঁড়ানো কিছু গাড়ি থেকে কৌশলে তেল বের করে নেওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়েছে।

ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার ও কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, ‘কৃষি কার্ড ব্যবস্থা চালু করার ফলে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা সহজ হয়েছে। আমরা কৃষকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’ তবে সেই অগ্রাধিকার মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে ক্ষুব্ধ কৃষকদের মুখে।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: