রাঙামাটির লংগদুতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের অবহেলায় তিন দিন বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা। শনিবার দিনগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চালককে শোকজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশুটির বাবা মো. আরিফুল ইসলাম জানান, তিন দিনের সন্তানের পায়খানা ও প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিলে তাকে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি বা চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স চালককে খবর দেয়। কিন্তু চালক আসতে দেরি করেন। বাড়িতে গিয়ে তাগাদা দেওয়ার পরেও আরও আধঘণ্টা পর চালক আসেন।
৫০০ টাকার জন্য প্রাণ গেল শিশুর
আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স ছাড়ার আগে চালক রতন চাকমা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে দুই হাজার টাকা দাবি করেন। অথচ সরকারি ভাড়া ছিল চৌদ্দশ টাকা। পনেরশ টাকা দিলে চালক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বলেন, ‘গরিব মানুষকে আবার অ্যাম্বুলেন্সে করে যেতে হবে কেন?’ এর পরও মাঝপথে মেরুং বাজারে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট গল্প করেন চালক।
আরিফুল ইসলাম আরও জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চালক অক্সিজেন লাইন খুলে ফেলতে বলেন। সেই নির্দেশ মেনে অক্সিজেন খুলে ফেলার পর জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। বাবার কান্নাভেজা কণ্ঠে একটাই কথা —
এক সপ্তাহ আগে বাবাকে হারানো আরিফুল এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, পরে সিদ্ধান্ত নেবেন।
অভিযোগ অস্বীকার চালকের
অ্যাম্বুলেন্স চালক রতন চাকমা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বাড়তি ভাড়া চাওয়া বা গালিগালাজের ঘটনা ঘটেনি। তবে অক্সিজেন লাইনের বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে তিনি লাইন খুলে রেখে যেতে বলেছিলেন।
লংগদু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিশাত জাহান নওরীন জানান, চালককে শোকজ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেলে আরও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা জানান, বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে চালকের গাফিলতি প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


