পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে দুটি তরতাজা প্রাণ ঝরে গেল নিঃশব্দে। প্রেম ছিল, বিয়ের স্বপ্ন ছিল — কিন্তু ছিল না পরিবারের সম্মতি। সেই যন্ত্রণাই শেষ পর্যন্ত কাল হল রাঙামাটির বরকল উপজেলার এক তরুণ ও তরুণীর।
মঙ্গলবার দুপুরে ভূষণছড়া ইউনিয়নের বাগাছড়ি এলাকার একটি গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় দুটি মরদেহ। একজন সুভাষ কান্তি চাকমা, কাপ্তাই উপজেলার বাসিন্দা। অন্যজন ইনা চাকমা, বাগাছড়িরই মেয়ে।
যেখানে বাধল গেরো
বাগাছড়ি এলাকার কারবারি প্রমিশ চাকমা জানাচ্ছেন পুরো ঘটনার বিস্তারিত। তাঁর কথায়, গত রবিবার সুভাষ কান্তি সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হন ইনার বাড়িতে। পারিবারিকভাবে কথাবার্তাও এগোচ্ছিল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই বেরিয়ে পড়ল এক অস্বস্তিকর সত্য — সুভাষের আগেও একটি বিয়ে হয়েছে, ঘরে স্ত্রী রয়েছেন।
সুভাষ অবশ্য নিজের পক্ষে সওয়াল করেন। জানান, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে বহু আগেই। কিন্তু সেই যুক্তিতে কান দিলেন না গ্রামবাসী, মানলেন না ইনার পরিবারও। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল — এ বিয়ে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
সম্বন্ধ ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই মুষড়ে পড়েন দুজনে। সেই অভিমান, সেই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সোমবার গভীর রাতে বাড়ির পাশের গাছটিকেই বেছে নেন শেষ আশ্রয় হিসেবে। দুজন একসঙ্গে গলায় ফাঁস দেন।
পুলিশ কী বলছে
বরকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। তবে কাপ্তাই হ্রদে জলের স্তর নামায় সঙ্গে সঙ্গে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে পাঠানো যায়নি। বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।


