Home খাগড়াছড়ি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ সদস্য নিহত, গুইমারায় সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ সদস্য নিহত, গুইমারায় সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। একই দিনে জেলার গুইমারা উপজেলার কুকিছড়াপাড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর পৃথক অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০০

Share

খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। একই দিনে জেলার গুইমারা উপজেলার কুকিছড়াপাড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর পৃথক অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার আকবাড়ি এলাকায় গুলির এ ঘটনা ঘটে। নিহত নিউটন চাকমা (৪৫) রাঙামাটি জেলার মগবান ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মৃত সোনাধন চাকমার ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি আকবাড়ি এলাকায় ইউপিডিএফের কালেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সকালে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি আকস্মিকভাবে সেখানে এসে গুলি চালিয়ে দ্রুত সরে যায়। এতে নিউটন চাকমা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায় কিসলু নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

এদিকে আজ ভোরে জেলার সিন্দুকছড়ি জোনের আওতাধীন গুইমারার কুকিছড়াপাড়া এলাকায় সেনাবাহিনী একটি ঝটিকা অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ইউপিডিএফ (মূল) দলের ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল সেখানে অবস্থান করছিল।

সিন্দুকছড়ি, মহালছড়ি ও মাটিরাঙা জোনের সমন্বয়ে গঠিত সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ‘কর্ডন অ্যান্ড সার্চ’ অভিযান চালায়। এ সময় ইউপিডিএফের পোস্ট পরিচালক তনিমং মারমার বাড়ি ঘেরাও করা হয়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা দুই সদস্য পাশের ছড়ায় ঝাঁপ দিয়ে পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যান। দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

পরে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় পিস্তল, একটি পাইপগান, পিস্তলের ছয় রাউন্ড গুলি এবং দুটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

সিন্দুকছড়ি জোন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাহাড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: