বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম নিশিপাড়া থেকে উঠে আসা য়াপাও ম্রো ইতিহাস লিখলেন। ম্রো জনগোষ্ঠী থেকে প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেন এই তরুণী। বিদ্যুৎ-নেটওয়ার্কহীন প্রত্যন্ত গ্রামে বড় হয়ে, জুমচাষি বাবার সীমিত আয়ে পড়াশোনা করে দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠে জায়গা করে নিলেন তিনি।
বান্দরবানের পার্বত্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে ম্রোরা সংখ্যায় দ্বিতীয় হলেও শিক্ষায় সবচেয়ে পিছিয়ে। অধিকাংশ মানুষ এখনো অক্ষরজ্ঞানহীন। নারীদের অবস্থা আরও নাজুক। স্বাধীনতার এত বছর পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ম্রো তরুণী ভর্তি হতে পারেননি— সেই শূন্যতা পূরণ করলেন য়াপাও।
কলেজে পড়ার সময় এই তথ্য জানতে পেরেই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বান্দরবান সরকারি কলেজ থেকে ২০২৫ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া য়াপাও ঢাকায় এসে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন ‘মানুষ মানুষের জন্য’ ফাউন্ডেশনের বৃত্তি নিয়ে। এর আগে থানচি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে এসএসসিতে পেয়েছিলেন জিপিএ ৪.২২।
শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান তিনি। রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে বেছে নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ।
তবে এই অর্জনে শুধু আনন্দ নেই য়াপাওয়ের। তিনি বলেন, “এটা যেমন গর্বের, তেমনি কষ্টেরও। আমাদের মতো অনেক এলাকায় মানুষ এখনো শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।” পড়াশোনা শেষে নিজের এলাকায় ফিরে শিক্ষার প্রসারে কাজ করতে চান তিনি।
ম্রো ভাষায় য়াপাও মানে ‘যে ফুল ফোটায়’।


