Home খাগড়াছড়ি দুই বছরেও সংস্কার নেই খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের প্রবেশপথে, হাসপাতালের দোরগোড়ায় এসে বাড়ছে যন্ত্রণা

দুই বছরেও সংস্কার নেই খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের প্রবেশপথে, হাসপাতালের দোরগোড়ায় এসে বাড়ছে যন্ত্রণা

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারের মুখ দেখেনি মাত্র ৪-৫ ফুট চওড়া এই সংযোগ সড়কটি। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বৃষ্টি হলে জমে যায় পানি। মুমূর্ষু রোগীরা হাসপাতালের দোরগোড়ায় এসেও পড়ছেন জীবনঝুঁকিতে।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৬

Share

শ্বাসকষ্ট নিয়ে কোনোরকমে হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন মো. আফসার মিয়া (৬০)। কিন্তু গেটের ভেতরে ঢুকতেই গর্তে পড়ে এমন ঝাঁকুনি খেলেন যে শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে গেল। পানছড়ি থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আসা অরগ্যান চাকমার গাড়ি একটুর জন্য উল্টে যায়নি। আর ডেলিভারি রোগী নিয়ে আসা অটোরিকশা চালক মো. হাসান জানালেন, ভাঙা রাস্তার ঝাঁকুনিতে রোগী ব্যথায় চিৎকার করছিলেন।

এটি কোনো প্রত্যন্ত গ্রামের রাস্তার গল্প নয়। এটি খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের একমাত্র প্রবেশপথের চিত্র। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারের মুখ দেখেনি মাত্র ৪-৫ ফুট চওড়া এই সংযোগ সড়কটি। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বৃষ্টি হলে জমে যায় পানি। মুমূর্ষু রোগীরা হাসপাতালের দোরগোড়ায় এসেও পড়ছেন জীবনঝুঁকিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের গেট থেকে মূল ভবন পর্যন্ত রাস্তার আস্তরণ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। রোগী বহনকারী অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গর্তে পড়ে অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শালবন এলাকা থেকে আসা মো. রহিম (৪২) বলেন, ‘গত ২-৩ বছর ধরে এই রাস্তার অবস্থা খারাপ। রোগী নিয়ে চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘দেশে উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়, কিন্তু জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের সামনের এই সামান্য রাস্তা কারো নজরে আসে না।’

হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, প্রতিদিন হাজারো রোগী ও স্বজন এই সড়ক ব্যবহার করেন। রাস্তার বেহাল দশায় রোগী, চিকিৎসক ও কর্মচারী — সবাইকেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, ‘রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় রোগী ও হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট সবাই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।’

তবে দায়িত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে চাপান-উতোর। খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলছেন, রাস্তাটি হাসপাতালের এলাকার মধ্যে হওয়ায় এটি মূলত স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্ব। তবে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে পৌরসভার পক্ষ থেকে দ্রুত সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কবে শুরু হবে সেই সংস্কার — সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন প্রতিদিন হাসপাতালে আসা হাজারো রোগী আর তাঁদের স্বজনেরা।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: