কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে পড়ে ছিল সাড়ে ১৯ একর অব্যবহৃত জমি। সেই জমিই এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্র। রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ২০১৯ সালে চালু হওয়া দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ছয় বছরে জাতীয় গ্রিডে গেছে ৬ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ, যার বাণিজ্যিক মূল্য ৭২ কোটি টাকা। আর এই কেন্দ্র এখন আরও বড় হতে চলেছে।
১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭.৪ মেগাওয়াটের এই কেন্দ্রে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছিল মাত্র ৪৮ পয়সা। প্রতিদিন গড়ে ২৭ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কেন্দ্রটি। পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশেই সৌরশক্তির এই নীরব অবদান এখন জাতীয় গ্রিডের নিয়মিত অংশ।
কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বর্তমান সক্ষমতার সঙ্গে শিগগিরই আরও এক মেগাওয়াট যুক্ত হচ্ছে। ৩৩২ কিলোওয়াটের রুফটপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজও শুরু হবে। আলাদাভাবে ৭.৬ মেগাওয়াটের নতুন একটি সোলার প্ল্যান্টও আসছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. মাহমুদ হাসান বলেন, ‘পানি ও সৌর — দুটি কেন্দ্রের বিদ্যুৎই এখন গ্রিডে যাচ্ছে। সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন আবহাওয়ানির্ভর হলেও সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।’
জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিবেশ-প্রকৃতিবিষয়ক গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যাপকহারে গ্রিনহাউস গ্যাস তৈরি করছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়াচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিবেশবান্ধব ও বারবার ব্যবহারযোগ্য। রাষ্ট্রের আরও উদ্যোগ জরুরি।’
কাপ্তাইয়ের এই কেন্দ্র ছোট হলেও দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথচলায় এটি একটি মাইলফলক। পরিত্যক্ত জমিতে সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ — এই ধারণাটাই বদলে দিয়েছে কাপ্তাই।


