Home রাঙামাটি রাঙামাটি পৌর ভবনে ঝলমলে আলো, পাশের সড়কে ঘুটঘুটে অন্ধকার — বাসিন্দাদের ক্ষোভ চরমে

রাঙামাটি পৌর ভবনে ঝলমলে আলো, পাশের সড়কে ঘুটঘুটে অন্ধকার — বাসিন্দাদের ক্ষোভ চরমে

পৌর ভবনের সামনে দৃষ্টিনন্দন বাগান। রাত নামলে সেখানে বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানি। কিন্তু ওই ভবনের ঠিক পাশের সড়কেই ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাসিন্দারা টর্চ জ্বালিয়ে হাঁটেন, চোর-মাদকসেবীরা অন্ধকারকেই সুযোগ বানান। এটাই এখন রাঙামাটি পৌর শহরের নিত্যদিনের চিত্র।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১০:৫৪

Share

পৌর ভবনের সামনে দৃষ্টিনন্দন বাগান। রাত নামলে সেখানে বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানি। কিন্তু ওই ভবনের ঠিক পাশের সড়কেই ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাসিন্দারা টর্চ জ্বালিয়ে হাঁটেন, চোর-মাদকসেবীরা অন্ধকারকেই সুযোগ বানান। এটাই এখন রাঙামাটি পৌর শহরের নিত্যদিনের চিত্র।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভার তকমা গায়ে থাকলেও নাগরিক সেবার বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ প্রায় এক লাখ বাসিন্দা। শহরের বেশির ভাগ সড়ক ও অলিগলিতে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক বাতি জ্বলছে না। কোথাও খুঁটি আছে, বাতি নেই। কোথাও বাতি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে মাসের পর মাস।

রসুলপুরের বাসিন্দা হেকমত আলীর কথায় ক্ষোভ স্পষ্ট। তিনি বলেন, “পুরো সড়কে মাত্র একটি বাতি জ্বলে। রাতে চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়। আমাদের এই কষ্ট নিয়ে পৌরসভার কোনো ভাবনা আছে বলে মনে হয় না।”

একই এলাকার সাহাব উদ্দিন তো রীতিমতো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন — ‘পৌর ভবনের সামনে কত সুন্দর বাগান, বাতির কোনো অভাব নেই। অথচ পাশের সড়কে কোনো বাতি জ্বলে না। আমাদের অন্ধকারে রেখে ঝলমলে পৌর ভবনের কোনো দরকার আছে বলে মনে হয় না।’

শুধু চলাচলের কষ্টই নয়, অন্ধকারের সুযোগে বাড়ছে অপরাধও। বাসা-বাড়ির বাইরে রাখা পানির মোটরসহ মূল্যবান সরঞ্জাম চুরির ঘটনা এখন নিয়মিত। মাদকসেবীদের আড্ডাও জমে অন্ধকার গলিতে। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ নিজের পকেটের টাকায় বাতি বসিয়েছেন নিজের বাড়ির সামনে।

বনরূপার নাজিম উদ্দিন মনে করিয়ে দিলেন অন্য একটি কথা — ‘রাঙামাটি একটি পর্যটন শহর। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটক আসেন। তাঁদেরও এই অন্ধকারে বিপাকে পড়তে হয়। বাতি নষ্ট হলে পৌর কর্তৃপক্ষকে জানালে ১৫ দিনেও কেউ আসে না বলেও অভিযোগ তাঁর।

তবে পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁর দাবি, টেন্ডার হয়েছিল, কিন্তু ঠিকাদার বাতি বুঝিয়ে দিতে দেরি করায় এই সমস্যা। এখন বাতি পেয়ে গেছি, প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। শিগগিরই সমাধান হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি তিনি জানান, শহরের ১৪টি স্পটে দৃষ্টিনন্দন বাতি বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: