বকেয়া পাওনা, সরকারি দামের চেয়ে কম বাজারমূল্য, লবণের দাম, পরিবহন খরচ বৃ্দ্ধি ও বাজারের অস্থিরতা চট্টগ্রামের চামড়া শিল্পকে চরম হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চামড়া ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসা থেকে। সমূহ সমস্যার কারণে গতবছরও চামড়ার বাজারে রীতিমত ধস নেমেছে। বিক্রি না হওয়ায় হাজার হাজার কাঁচা চামড়া রাস্তায় পচেছে। এমন অবস্থায় আড়তদাররা চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ চান। তা নাহলে এবারও কোরবানির পশুর চামড়া রাস্তায় পচার আশঙ্কা করছেন তারা।
দামের বিষয় ছাড়াও লবণের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ এবং বাজারের অস্থিরতা চামড়া খাতের সংকটকে আরও গভীর করেছে। আড়তদারদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারের প্রকৃত মূল্যের বড় ফারাক থাকায় প্রতি মৌসুমেই তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, রমজানের আগে ৭৪ কেজি লবণের বস্তা ৫৮০ টাকা। এখন ৭৫০ টাকা। আমরা আশা করছি, কোরবানের আগে ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া পাওনার আশা করছি। টাকা না পেলে আমাদের উপর প্রভাব পড়বে। গত কয়েক বছর যাবৎ ব্যবসায়ে লোকসান দিতে দিতে অনেকেই দেউলিয়া হয়ে গেছে। বর্তমানে মাত্র ৩০/৪০ জন ব্যবসায়ী আছে।
জানা গেছে, ট্যানারি মালিকরা বকেয়া পরিশোধ না করায় পুঁজি সংকটে চট্টগ্রামে কাঁচা চামড়ার আড়ৎদাররা। বর্তমানে প্রায় ২০/২৫ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর ট্যানারি মালিকরা সরকারি দরের চেয়ে কম দামে কাঁচা চামড়া কেনায় লোকসানের পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। তারওপর লবণের দাম বাড়ায় কোরবানিতে চামড়া ক্রয় নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
আসন্ন কোরবানির ঈদে চট্টগ্রাম মহানগর ও ১৫ উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আড়ৎদারদের।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ বলেন, চামড়া ব্যবসায়ে সিন্ডিকেট আছে বলে যে অভিযোগ তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অবাস্তব। সিন্ডিকেট থাকলে লাভের আশায় ব্যবসায়ী বাড়ত। দিন দিন ব্যবসায়ী কমছে কেন ? চামড়ার ন্যায্য দামটা যদি ব্যবসায়ীরা পেত, তাহলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হতো।চামড়া আর রাস্তায় পচত না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি হলো সরাসরি কাঁচা চামড়া রপ্তানি যেন চালু করা হয়।
ব্যবসায়ীরা জানালেন, তাদের সমিতির ১১২ জন সদস্যসহ আগে প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ জন ব্যবসায়ী চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু ধারাবাহিক লোকসানের কারণে বর্তমানে এ সংখ্যা কমে ৩০ থেকে ৪০ জনে নেমে এসেছে। এ ব্যবসায় বিনিয়োগকারী বাড়াতে হবে। তা নাহলে প্রতিবছর বিশ্ব বাজারে চামড়ার উপযোগিতা সৃষ্টি করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
কোরবানির ঈদের আগে সরকার ঢাকায় লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬০-৬৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫০-৫৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। তবে কোরবানির পর ট্যানারি মালিকদের কাছে সেই চামড়া ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা। আড়তদারদের অভিযোগ, প্রতি কেজিতে লবণের দাম বেড়েছে ৩/৪ টাকা পর্যন্ত। প্রতি পিস গরুর চামড়া সংরক্ষণে লবণ ও শ্রমিকের গড় ব্যয় ৪০০ টাকা। সে হিসেবে, কম দামে চামড়া বিক্রির কারণে চরম লোকসানের মুখে পড়ে যান ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়ৎদার সমিতির সহ-সভাপতি সম্রাট মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, লবণের দাম বৃদ্ধি, কম দামে চামড়া বিক্রি করার কারণে আমাদের ব্যবসা আজ ধংসের পথে। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


