Home জাতীয় নাগরিকত্ব ছাড়তে চান এস আলম, সরকার বলছে এখনই নয়

নাগরিকত্ব ছাড়তে চান এস আলম, সরকার বলছে এখনই নয়

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আবারও আবেদন করেছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং দুই ছেলে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম মাহিরের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদনও করেছেন তিনি।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০১:৩৭

Share

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আবারও আবেদন করেছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং দুই ছেলে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম মাহিরের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদনও করেছেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু সরকার আপাতত এই আবেদন মঞ্জুর করতে রাজি নয়।

কারণ এস আলমের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। নাগরিকত্ব ছেড়ে দিলে সেই অর্থ ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়বে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বড় সমস্যা — সাইফুল আলম নিজেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে মামলা ঠুকেছেন। নাগরিকত্বের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান শক্তিশালী হলে ওই মামলায় বাংলাদেশ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এটি অবশ্য প্রথমবারের চেষ্টা নয়। ২০২০ সালেও একই আবেদন করেছিলেন তিনি। সেবার সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব গ্রহণের কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সেই আবেদন মঞ্জুর করেছিল। কিন্তু গত বছরের নভেম্বরে সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করে ইসলামী ব্যাংক। হাইকোর্ট আওয়ামী লীগ আমলের সেই স্মারক স্থগিত করে দেন। ফলে সাইফুল আলমের নাগরিকত্বের প্রশ্ন এখনো ঝুলে আছে।

প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ূম বলেন, “সাইফুল আলম ২০২০ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে দাবি করছেন। তাহলে তিনি কীভাবে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানির নামে ব্যাংকঋণ নিয়েছেন?”

তিনি আরও বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনের আসল উদ্দেশ্য বিদেশে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার দায় এড়ানো এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে আইনি সুরক্ষা নেওয়া।

সাইফুল আলম আসলে কোন দেশের নাগরিক — সাইপ্রাস না সিঙ্গাপুর? ২০২০ সালে সাইপ্রাসের নাগরিকত্বের কথা বলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন। আবার গত অক্টোবরে সিঙ্গাপুরের নাগরিক দাবি করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিসি মামলা করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তিনি কবে সিঙ্গাপুরের নাগরিক হলেন বা সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব ছাড়লেন কি না — এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই।

আন্তর্জাতিক সালিসি মামলায় এস আলমের অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকার তাঁদের সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করে এবং ‘প্ররোচনামূলক মিডিয়া অভিযান’ চালিয়ে শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি করেছে। এই মামলার শুনানি আগামী ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। ব্রিটিশ একটি আইনি প্রতিষ্ঠানকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষে লড়তে।

স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, “সরকার এ মামলায় লড়তে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।”

নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদনের বিষয়ে সাতটি সরকারি সংস্থার মতামত চাওয়া হয়েছে। এখনো সব সংস্থার প্রতিবেদন আসেনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এস আলম আর দেশে ফেরেননি। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাংক দখল, ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক ও এনবিআর। দুদক ইতিমধ্যে তাঁসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমতি দিয়েছে।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: