Home বিশেষ প্রতিবেদন কাপ্তাইয়ের পাহাড়ে আমের মুকুলের সৌরভ, ভালো ফলনের আশা চাষীদের

কাপ্তাইয়ের পাহাড়ে আমের মুকুলের সৌরভ, ভালো ফলনের আশা চাষীদের

নৌকা, পাহাড়ি বাতাস আর হ্রদের শান্তি—কাপ্তাইয়ের এই প্রাকৃতিক পরিবেশে এখন আম বাগানের সৌরভ ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড়ের ঢালে সারি সারি আম গাছ, গাছে গাছে সোনা রঙের মুকুল ধারণ করে চারপাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে মিষ্টি সুগন্ধ।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৭

Share

আম বাগানে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

নৌকা, পাহাড়ি বাতাস আর হ্রদের শান্তি—কাপ্তাইয়ের এই প্রাকৃতিক পরিবেশে এখন আম বাগানের সৌরভ ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড়ের ঢালে সারি সারি আম গাছ, গাছে গাছে সোনা রঙের মুকুল ধারণ করে চারপাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে মিষ্টি সুগন্ধ। যে দিকে চোখ যায়, শুধু আম বাগানের সারি—শীতের বিদায়ের সময়ে চাষীরাও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন গাছের পরিচর্যায়। মুকুলের এই দৃশ্য দেখে সকলেই আশা করছেন এবার আমের ফলন ভালো হবে।

কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের সাফছড়ি এলাকার চাষীরা জানালেন, এইবার বিগত বছরের তুলনায় প্রায় এক মাস আগে থেকেই মুকুলের দেখা মিলেছে। “আবহাওয়া অনুকূল থাকায় গাছে ব্যাপক পরিমাণ মুকুল এসেছে। যদি এই অবস্থা টিকে থাকে, তবে ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক ভালো হবে,” বললেন সুনিল কুমার তনচংগ্যা।

চাষীরা বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পার্বত্য এলাকায় ‘আম রূপালী’ জাতের চাহিদা বেশি। গত বছরও এই জাতের আম বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন তারা। স্বাদ ও চাহিদা দেখে এবারও সকলেই এই জাতের চাষে উৎসাহী।

তবে খরচও বেশি হচ্ছে। কীটনাশক, সেচ এবং শ্রমিকের মজুরির বৃদ্ধিতে চাষীদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। “ফলে এবার আমের দাম বাড়ার সম্ভাবনা আছে,” বললেন কয়েকজন চাষী।

শিক্ষকত্বের পাশাপাশি শখের বাগান করছেন মধু মঙ্গল তনচংগ্যা। তার বাগানে দেশীয় বারি-১ থেকে বারি-৮ পর্যন্ত জাতের আম গাছের সঙ্গে জাপানী বিখ্যাত ‘মিয়াজাকি’ ও আমেরিকান ‘রেড আইভরী’ জাতের চারা রয়েছে। তিনি জানান, “গত বছর ফলন কম ছিল, কিন্তু এবছর মুকুল অনুযায়ী ভালো ফলনের আশা করছি।”

কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, এই উপজেলায় মোট ৭৫৫ হেক্টর জমিতে ‘রূপালী’ সহ বিভিন্ন জাতের আমের চাষ করা হয়েছে। বাগানগুলোতে ভালো মুকুল দেখা দিয়েছে। চাষীদের দু’দফা স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—মুকুল অবস্থায় একবার এবং আম মার্বেল আকার ধারণ করলে আরেকবার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “যদি এই মুকুল ঠিক থাকে, এবছর ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।”

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: