Home বিশেষ প্রতিবেদন দীর্ঘদিন অনির্বাচিত নেতৃত্ব তিন পাহাড়ে, আস্থা হারাচ্ছে বাসিন্দারা

দীর্ঘদিন অনির্বাচিত নেতৃত্ব তিন পাহাড়ে, আস্থা হারাচ্ছে বাসিন্দারা

প্রায় ২৮ বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ অনির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় এই পরিষদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৩০

Share

প্রায় ২৮ বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ অনির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় এই পরিষদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

কেবল তাই নয়, দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে জেলা পরিষদগুলোতেও অনির্বাচিত কমিটির লোকজন ঠাঁই করে নেওয়ায় পাহাড়ের মানুষ উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং তিন জেলা পরিষদের নির্বাচন না হওয়ায় পাহাড়ের মানুষ দেশের সরকারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন। এর ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি-বাঙালি বৈষম্যের ধারা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ হলো রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলা নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ স্থানীয় সরকার পরিষদ। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তির অধীনে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত তিনটি জেলা পরিষদ ও পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের সমন্বয় করতেই এই পরিষদটি গঠন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে মাত্র ৫ বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় তিন দশক ধরে বিনা নির্বাচনে ‘প্রতিমন্ত্রী’ পদমর্যাদায় আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদটিতে এখন অধীন আছেন আলোচিত নেতা সন্ত্তু লারমা। যাকে অসাংবিধানিক হিসেবে আখ্যায়িত করছেন পাহাড়ের বাসিন্দারাসহ একাধিক সংগঠন।

সেই সময় এই পরিষদে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল তারা এখনও একনাগাড়ে ক্ষমতায় রয়েছেন। গত ২৮ বছরে কোনো সরকার আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন বা পুনর্গঠন করেনি; এমনকি পুনঃনিয়োগও দেয়নি।

অন্যদিকে ৩৭ বছরের বেশি সময় ধরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলা পরিষদেরও নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতি বেড়েছে। শাসন ব্যবস্থায় অনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা থাকায় সব ধরণের জবাবদিহিতা থাকছে উপেক্ষিত।

এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের দ্রুত নির্বাচন দাবি করেছে। জেএসএস ভেঙে গঠিত হওয়া ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপও সন্ত্তু লারমার অপসারণ চেয়ে নতুন নেতৃত্বের প্রশ্ন তুলেছে।

পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাঙালিদের অংশগ্রহণের সুযোগ এবং ভাইস-চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে পরিষদ পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অনির্বাচিত ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করছেন। এতে জবাবদিহিতার অভাব তৈরি হয়েছে এবং দুর্নীতি ও অনিয়ম বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কোটা বিরোধী ঐক্য জোটের নেতা রাকিব হাসান বলেন, অতীতে সিলেকশনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠনের কারণে চরম দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব পাওয়ার উদাহরণ রয়েছে।

পাহাড়ের সচেতন নাগরিকদের অভিমত, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেখানে প্রতিনিধিত্বমূলক নেতৃত্ব গড়ে উঠবে এবং সব সম্প্রদায়ের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। আর ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বই কেবল পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়ন ও সাম্য নিশ্চিত করতে পারে—এমন প্রত্যাশাই এখন পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: