Home খাগড়াছড়ি ইউএনওকে পেটানোর সাহস কোথা থেকে — রামগড়ের বালু সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা?

ইউএনওকে পেটানোর সাহস কোথা থেকে — রামগড়ের বালু সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা?

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে গিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম। কিন্তু অভিযান শুরু হতে না হতেই চারদিক থেকে ঘিরে ধরল শতাধিক মানুষ।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১০:৪৮

Share

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে গিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম। কিন্তু অভিযান শুরু হতে না হতেই চারদিক থেকে ঘিরে ধরল শতাধিক মানুষ। হাতে ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা। মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হলো রামগড়ের পূর্ববলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকা। ইউএনও, থানার ওসিসহ আহত হলেন ১৫ জন। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে ছুঁড়তে হলো ফাঁকা গুলি, আনসারকে রাবার বুলেট।

মঙ্গলবার দুপুরে ঘটা এই হামলার ঘটনা নিছক কিছু নয়। প্রশ্ন উঠেছে, পাহাড়ে অবৈধ বালু ব্যবসার নেটওয়ার্ক কতটা সংগঠিত ও শক্তিশালী তা নিয়ে। ইউএনও জানান, ওই এলাকায় একসঙ্গে ১০টি স্পটে পাম্প মেশিন বসিয়ে চলছিল অবৈধ বালু উত্তোলন।

অভিযানের খবর পেয়ে মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যে এক থেকে দেড়শ মানুষ সংগঠিত হয়ে হামলা চালাল — এই দ্রুততাই প্রশ্ন তুলছে, পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন আছে কি না।

প্রশ্ন উঠছে, অভিযানের খবর পেয়ে মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যে এক থেকে দেড়শ মানুষ সংগঠিত হয়ে হামলা চালাল কীভাবে? এই সংগঠিত প্রতিরোধই ইঙ্গিত দিচ্ছে, পেছনে রয়েছে শক্তিশালী কোনো নেটওয়ার্ক।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ বালু উত্তোলন নতুন কোনো সমস্যা নয়। খাল, নদী ও পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রির এই ব্যবসা বছরের পর বছর ধরে চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই ব্যবসা এতটাই শিকড় গেড়ে বসেছে যে প্রশাসন অভিযানে গেলেই সংঘর্ষ বাধে।

থানার ওসি মো. নাজির আলম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও আনসার সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়েন। আহতদের মধ্যে ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত চার আনসার সদস্য, ইউএনও অফিসের কর্মচারী, গাড়িচালকসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত চার গ্রামবাসী রাবার বুলেটে আঘাত পেয়েছেন।

তবে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। আহত গ্রামবাসী দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেনের দাবি, প্রশাসন কৃষকদের সেচের পাম্প মেশিন ভেঙে দিলে তাঁরা প্রতিবাদ করেন, তখনই গুলি চালানো হয়। কৃষক ফারুকসহ কয়েকজন একই অভিযোগ করেছেন। যদিও ইউএনও কাজী শামীম এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: