মৌসুম শুরু হতে না হতেই খাগড়াছড়ির বাজারে ভরে গেছে হলুদ রঙের আম। কিন্তু কাটলেই বেরিয়ে আসছে আসল চেহারা — ভেতরটা শক্ত, স্বাদ টক। অধিক মুনাফার আশায় অপরিপক্ক আমে ‘ইথোফেন’ জাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করে কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে বাজারজাত করছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।
শহরের শাপলাচত্বর থেকে মসজিদ রোড এলাকার দোকানগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাইরে থেকে পাকা দেখালেও অধিকাংশ আমের ভেতরের অংশ শক্ত ও টক। ক্রেতা মিনহাজ আহমেদ বলেন, ‘পাকা রং দেখে ১৪০ টাকায় দুই কেজি আম কিনেছি। যদি রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়ে থাকে তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, মৌসুমের শুরুতে দাম বেশি থাকায় একটি চক্র এভাবে আম পাকিয়ে বাজারে ছাড়ছে। এতে আমের মিষ্টতার বদলে টক হচ্ছে, ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন।
ক্যাবের খাগড়াছড়ি সভাপতি কেএম আবু তাহের মাহমুদ বলেন, রাসায়নিকে পাকানো আমে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। বাজার মনিটরিং জোরদার করে ভেজাল আম বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা জানান, এখন কেবল দেশীয় জাতের কিছু আম পরিপক্ক হয়েছে। আম্রপালি পরিপক্ক হবে এ মাসের শেষে, অন্যান্য জাত জুনের মাঝামাঝিতে। অপরিপক্ক আম সংগ্রহ ও রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে স্বাভাবিক গন্ধ ও রঙ থাকে। কিন্তু রাসায়নিকে পাকানো আমে অতিরিক্ত চকচকে ভাব ও অস্বাভাবিক রঙ দেখা যায়। তাই বিশ্বস্ত উৎস থেকে আম কেনার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা।


