কেওক্রাডং, তাজিংডং নাকি সাকাহাফং — বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি, সেই প্রশ্নের দীর্ঘ বিতর্কের অবসান হতে পারে আগামী ১ মে। প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে জরিপ চালাচ্ছে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে সেই জরিপের কাজ প্রায় শেষের পথে।
শুক্রবার রাতে বান্দরবান সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূর ই আলম মো. জোবায়ের সারোয়ার। তিনি জানান, বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলার আয়েতলাং, যোত্লাং, কেওক্রাডং, তাজিংডং-১ ও তাজিংডং-২, সাকাহাফং-১ ও সাকাহাফং-২ এবং যোগিহাপংসহ মোট ১০টি সম্ভাব্য উচ্চতম শৃঙ্গের উচ্চতা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিমাপ করা হচ্ছে। ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই জরিপ ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে ২৭ জন সার্ভেয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কাজ করছেন। পরিচালক জানান, যাতায়াত, যোগাযোগ আর থাকা-খাওয়ার প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই জরিপ চালানো বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সার্বিক সহযোগিতায় কাজ এগিয়ে চলেছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, পরিমাপ করা শৃঙ্গগুলোর মধ্যে একটি ভারতের মিজোরাম অংশে পড়ায় দেশের অভ্যন্তরে আরেকটি পাহাড়ের পরিমাপও চলমান রয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালে একবার এই জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। এবারই প্রথম সরকারিভাবে মাঠে নেমে দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নির্ধারণের কাজ হচ্ছে। ১ মে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দীর্ঘদিনের এই অনিশ্চয়তার ইতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।


