Home বিশেষ প্রতিবেদন পাহাড় থেকে ফিরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত পর্যটকরা, দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

পাহাড় থেকে ফিরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত পর্যটকরা, দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বান্দরবানের গহিন পাহাড়ে ১০ দিন ট্রেকিং করে ঢাকায় ফেরার প্রায় দশ দিন পর হঠাৎ জ্বরে পড়েন কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৭

Share

বান্দরবানের গহিন পাহাড়ে ১০ দিন ট্রেকিং করে ঢাকায় ফেরার প্রায় দশ দিন পর হঠাৎ জ্বরে পড়েন কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব। তীব্র মাথাব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা আর কালো প্রস্রাব — লক্ষণ দেখে চিকিৎসকরা বুঝলেন এটি ম্যালেরিয়া এবং অবস্থা গুরুতর। একই দলের আরও দুজন — মিরপুরের জাহেদ ও যাত্রাবাড়ীর সজলও একই রোগে আক্রান্ত হন।

এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ম্যালেরিয়া। পার্বত্য অঞ্চল থেকে ফেরা পর্যটকদের মাধ্যমে রোগটি ঢাকাসহ সমতলে ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. শ্রীবাস পাল জানান, গত দুই সপ্তাহেই তাঁর হাসপাতালে পাঁচজন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর দেশের ১৩টি জেলায় ১০ হাজার ১৬২ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ১৬ জন। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই আক্রান্ত ৪৬০ জন। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বান্দরবান — দেশের মোট আক্রান্তের প্রায় ৫০ শতাংশই এই জেলার। এরপর রয়েছে রাঙামাটি, কক্সবাজার ও খাগড়াছড়ি।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ছয় বছরে এই কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬০৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সংক্রমণের হার এবং ‘অপারেশন প্ল্যান’ বন্ধ থাকার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও ৬ থেকে ৭ বছর বাড়তি সময় লাগতে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘সংক্রমণের বর্তমান হারে ২০২৭ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূল সম্ভব নয়। হঠাৎ সংক্রমণ বাড়ার কারণ চিহ্নিত করে নির্মূল পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা এবং বন্ধ থাকা অপারেশন প্ল্যান পুনরায় সচল করা জরুরি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ, কীটনাশকযুক্ত মশারির ব্যবহার বৃদ্ধি ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি অধিক সংক্রমিত এলাকায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে কার্যক্রম জোরালো করা দরকার।

চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, পার্বত্য অঞ্চল ভ্রমণের পর তিন সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে জ্বর দেখা দিলে দেরি না করে ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করাতে হবে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এই রোগ থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: