Home খাগড়াছড়ি খাগড়াছড়িতে ‘খাল গিলে খাচ্ছে’ প্রভাবশালীরা, বর্ষার আগেই তলিয়ে যাওয়ার ভয়

খাগড়াছড়িতে ‘খাল গিলে খাচ্ছে’ প্রভাবশালীরা, বর্ষার আগেই তলিয়ে যাওয়ার ভয়

খাগড়াছড়ি শহরের বুক চিরে একসময় বয়ে যেত টলটলে জলের খাল। মানুষ গোসল করতেন, ছেলেরা মাছ ধরত, স্পিডবোট চলত অনায়াসে। সে দিন গেছে। আজ সেই খালের বুকে মাথা তুলেছে পাকা দালান, মার্কেট, হোটেল। আর বর্ষা আসার আগেই শহরবাসীর মনে জমছে এক গভীর আতঙ্ক — এ বার কি ডুববে গোটা শহর?

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫

Share

খাগড়াছড়ি শহরের বুক চিরে একসময় বয়ে যেত টলটলে জলের খাল। মানুষ গোসল করতেন, ছেলেরা মাছ ধরত, স্পিডবোট চলত অনায়াসে। সে দিন গেছে। আজ সেই খালের বুকে মাথা তুলেছে পাকা দালান, মার্কেট, হোটেল। আর বর্ষা আসার আগেই শহরবাসীর মনে জমছে এক গভীর আতঙ্ক — এ বার কি ডুববে গোটা শহর?

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ভয়াবহ ছবি। খাগড়াছড়ি খাল, রাঙ্গাপানি ছড়া আর চেঙ্গী নদীর পাড় দখল করে একের পর এক স্থাপনা গড়ে উঠছে। মিলনপুর থেকে কলাবাগান, বাজার ব্রিজ থেকে ইসলামপুর — শহরের প্রায় প্রতিটি কোণেই একই দৃশ্য।

যাঁদের বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছে
পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতিমধ্যে ১২ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ দখলের অভিযোগ এনেছে। তালিকায় আছেন হোটেল মালিক, ব্যবসায়ী, এমনকি স্বয়ং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডও। অভিযোগ, উন্নয়ন বোর্ডের খাগড়াছড়ি প্রকৌশল শাখা সরকারি বরাদ্দের টাকায় খাল দখলকারীদের জন্য ‘গাইড ওয়াল’ বানিয়ে দিয়েছে — যার ফলে প্রভাবশালীরা খালের জমি নিজের বলে দাবি করার সুযোগ পাচ্ছেন।

সুজন-এর জেলা সভাপতি নির্মল কান্তি দাশের প্রশ্ন, “পৌরসভার অনুমোদন ছাড়া জনগণের কোটি টাকা কীভাবে এই কাজে ঢালা হলো?”

চিঠির পর চিঠি, কাজের কাজ শূন্য
জেলা প্রশাসন দখলদারদের স্থাপনা সরাতে নির্দেশ দিয়েছিল। দখলদাররা নিজেদের ‘বৈধ’ দাবি করে পাল্টা চিঠি ঠুকে দিয়েছেন। তারপর? সব থমকে।

খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী বলছেন, “প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বলেই এই সাহস। নদীতে গাইড ওয়াল দিয়ে গতিপথ পাল্টে দেওয়া হচ্ছে, উঠছে ভবন। পর্যটন শহরের যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছিল, তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”

বর্ষার আগে ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করছে
জেলায় মোট ৩টি নদী এবং ৪১টি খাল ও ছড়া রয়েছে। স্থানীয় নেতারা বলছেন, এগুলো দ্রুত দখলমুক্ত না হলে আসন্ন বর্ষায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা অনিবার্য।
পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক হাসান আহমেদ অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, “সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: