বান্দরবানের মেয়ে মাধবী মারমা এখন সংসদ সদস্য। বিতর্ক, আপিল, আইনি লড়াই — সব পেরিয়ে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের গেজেটে উঠল তাঁর নাম। শপথ নিলেই পাহাড়ের এই আইনজীবী হবেন পাহাড় থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি।
বান্দরবান জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাধবী মারমা জেলা জজকোর্টের আইনজীবী এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি বান্দরবান শাখার সহসভাপতি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যও ছিলেন তিনি।
তবে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই বিতর্কে পড়েন মাধবী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বান্দরবান জেলার সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে নোটারি পাবলিক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ঝড় ওঠে।
এরপর আসে আইনি লড়াই। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা জেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগ না করে মনোনয়নপত্র দাখিলের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। তবে সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চার কমিশনারের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে সেই আপিল খারিজ করে দেয় ইসি।
বিতর্ক প্রসঙ্গে মাধবী মারমা বলেন, ‘এপিপি হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। বিএনপি ঘরানার আমার সিনিয়র ড. মহিউদ্দিনের সুপারিশেই আমি এপিপি হয়েছিলাম। গেজেট হতে হতে আওয়ামী লীগ সরকার চলে আসে। এটি নিয়ে অনেকে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছেন।’
সংসদে গিয়ে পাহাড়ের মানুষের কথা বলতে চান তিনি। মাধবী বলেন, ‘পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অধিকার, বঞ্চনা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরা আমার কাছে অগ্রাধিকার পাবে।’
বিএনপি জোট থেকে মোট ৩৬ জন, জামায়াত জোট থেকে ১২ জন ও স্বতন্ত্র একজন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। গেজেট প্রকাশের পর এখন সংসদ সচিবালয়ে তা পাঠানো হবে। এরপরই শপথের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।


