কুচকুচে কালো শরীর, মাথায় সাদা ছাপ, দানবীয় আকৃতি। খাগড়াছড়ির কোরবানির হাটে এবারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘সম্রাট’। ওজন এক হাজার একশো কেজি — এক টনেরও বেশি। দাম? ১২ লাখ টাকা।
মাটিরাঙ্গা উপজেলার শেঠ এগ্রো ফার্মস লিমিটেডে বিশেষ যত্নে বড় করা হয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়কে। খামারের কর্মচারী ওয়ালি উল্লাহ বাবু জানান, জন্ম থেকেই আলাদা পরিচর্যায় বড় করা হয়েছে সম্রাটকে। কোনো ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে।
খাবারের তালিকাও বেশ রাজকীয়। প্রতিদিন কাঁচা ঘাস, খড়ভুষি, ভুট্টা, বাঁধাকপি, মিষ্টিকুমড়া, ধানের কুঁড়া আর চালের ভাত। সকাল-বিকেল গোসল, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা — রীতিমতো রাজকীয় জীবনযাপন। প্রতিদিন শুধু খাবার ও পরিচর্যাতেই খরচ হাজার টাকার বেশি।
পাহাড়ের গরুর এই প্রাকৃতিক পরিচর্যার গল্প এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। সমতলের গরুর তুলনায় এখানকার গরুতে চর্বি কম, মাংসের মান ভালো। এই সুনামের কারণেই ঈদের আগে আগে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে ভিড় করছেন খাগড়াছড়ির খামারগুলোতে।
আরেক কর্মচারী জুলহাস মিয়া বলেন, ‘গরুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো করেই বড় করা হয়েছে। সম্রাট এখন খামারের মূল কেন্দ্রবিন্দু।’
শুধু সম্রাট নয়, এ বছর খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত আরও ১৭টি ষাঁড়, ৩টি মহিষ, ৩টি পাহাড়ি গয়াল এবং কয়েকটি গাড়ল। খামারের ম্যানেজার জানান, এখানে ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, ব্রাহামা-শাহীওয়াল ক্রসসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। বেশ কয়েকটির ওজন ৮০০ থেকে ৯০০ কেজির মধ্যে। তবে সবার নজর কেড়েছে সম্রাট। খামার থেকে বিক্রির পাশাপাশি চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ীতেও তাদের বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোমেন চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ের গরু দেখতে হৃষ্টপুষ্ট হলেও মাংসে চর্বি কম। রাসায়নিক কিছু ব্যবহার না হওয়ায় এখানকার গরুর মাংস শতভাগ নিরাপদ।’
খাগড়াছড়ি প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর জেলায় চাহিদা মিটিয়ে ৫ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। পাহাড়ের গরুর মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই ছুটে আসছেন।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, সম্রাটকে এক নজর দেখতে ভিড় বাড়ছে খামারে। শেষ পর্যন্ত কে হবেন এই রাজকীয় ষাঁড়ের মালিক — সেটাই এখন সবার কৌতূহল।


